Government urged to close unaccredited private marine academies

Comments Off on Government urged to close unaccredited private marine academies

মানহীন বেসরকারি মেরিন একাডেমি বন্ধের সুপারিশ

মেরিটাইম ইনস্টিটিউট পরিচালনার নীতিমালা অনুসরণ না করায় বন্ধ হচ্ছে মানহীন বেসরকারি মেরিন একাডেমি। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মূল্যায়নে ১৮টি বেসরকারি মেরিন একাডেমির অর্ধেকই মানহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মানহীন ৯টি একাডেমি বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে মান উত্তীর্ণ করার জন্য অভিযুক্ত একাডেমিগুলোকে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর ।
দেশে বর্তমানে ১৮টি বেসরকারি মেরিন একাডেমি রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ৫টি বেসরকারি মেরিন একাডেমিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাকি ১৩টি বেসরকারি একাডেমি অনুমোদন দেন সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক কমডোর জোবায়ের আহমেদ। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়েই তখন এসব একাডেমির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ২ বছরে ১৩টি বেসরকারি একাডেমি অনুমতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা ও আর্থিক দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছিল। এসব একাডেমির বেশিরভাগের বিরুদ্ধে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করা ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর বেসরকারি একাডেমিগুলোর মান যাচাইয়ে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে। কমিটি এসব একাডেমি ক্যাম্পাসের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, শ্রেণী কক্ষ, শিক্ষকদের যোগ্যতা, শিক্ষকের সংখ্যা, কোর্স কারিকুলাম, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ সুবিধাদি, কোর্স পরিকল্পনা, ক্যাডেটদের চাকরির বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে তাদের মূল্যায়ন সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে জমা দেয়। এ প্রতিবেদনটি গত ২ জুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা-সংক্রান্ত সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে ১৮টি বেসরকারি একাডেমির বিভিন্ন মান যাচাই করে তাদের এ, বি, সি ও ডি গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে। এ-গ্রেডভুক্ত একমাত্র একাডেমিটি হলো ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমি। বি-গ্রেডভুক্ত চারটি একাডেমি হলো_ বাংলাদেশ মেরিটাইম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইউনাইটেড মেরিন একাডেমি, শাহ মেরিন অ্যান্ড বিজনেস ইনস্টিটিউট এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ট্রেনিং একাডেমি।
সি-গ্রেডভুক্ত চারটি একাডেমি হলো ক্যামব্রিজ মেরিটাইম কলেজ, এমএএস মেরিন একাডেমি, প্যাসিফিক মেরিটাইম একাডেমি ও ওয়েস্টার্ন মেরিটাইম একাডেমি। ডি-গ্রেডভুক্ত নয়টি একাডেমি হলো ওশান মেরিটাইম একাডেমি, মেরিটাইম ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বে মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, একাডেমি অব মেরিন এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ওয়েস্ট ওয়ে মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, আটলান্টিক মেরিটাইম একাডেমি, মেরিনা একাডেমি, ন্যাশনাল মেরিন
একাডেমি অব বাংলাদেশ এবং এশিয়ান মেরিটাইম একাডেমি।
যে সব প্রতিষ্ঠানকে সি এবং ডি গ্রেডভুক্ত করা হয়েছে তাদের চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে গাইডলাইনের শর্ত পূরণ করে নূ্যনতম বি-গ্রেডে উন্নীত করতে বলা হয়েছে। বি-গ্রেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্রমান্বয়ে এ-গ্রেডে উন্নীত করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, একাডেমিগুলোকে গ্রেডভুক্ত করার উদ্দেশ্য যাতে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত না হয়। এখন অভিভাবকরা একাডেমিগুলোর গ্রেড দেখে সন্তানদের ভর্তি করাতে পারবেন। তিনি বলেন, ডি-গ্রেডভুক্ত একাডেমিগুলো বন্ধ করে দিতে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ রয়েছে। আপাতত ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়ে তাদের মান উত্তীর্ণ করতে বলা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কেউ মান উন্নয়নে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব একাডেমির কয়েকটি এখনও কার্যক্রমই শুরু করতে পারেনি বলে তিনি জানান।
Source: Samakal

Comments are closed.